Wednesday, July 17, 2013

রাষ্ট্র বনাম মির্জা ফখরুল ইসলাম


কয়েকদিন আগে আমাদের দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে আমার পছন্দের একটি দৈনিক পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক ‘রাষ্ট্র বনাম মির্জা ফখরুল’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। ওই নিবন্ধে লেখক সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি দলটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে প্রশংসামূলক অনেক কথাই লিখেছেন। সবকিছুর উত্তর দেয়ার আমার কোন ইচ্ছা নেই। তবে এমন সম্মানিত ব্যক্তির শুধু একটি বিষয়ে আমি মৃদু প্রতিবাদ করছি। 
রাষ্ট্র বনাম মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর সাত্তার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (সব অধ্যাপকই আমাদের মতো আমজনতার কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার পাত্র) সাহেব তার নিবন্ধের এক জায়গায় লিখেছেন, মির্জা সাহেব খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের কোন অভিযোগ কখনও উচ্চারিত হয়নি। কথাগুলো পড়ে রবিঠাকুরের গানের একটি কলি মনে পড়ে গেল ‘সখী ভালোবাসা কারে কয়!’ ওই গানের কলিটি স্মরণ করে এবং শ্রদ্ধেয় অধ্যাপকের লেখাটা পড়ে, বলতে ইচ্ছা করে, সখী মিথ্যা কাহারে কয়!
অ ঢ়ড়ষরঃরপরধহ রং বরঃযবৎ ধ মবহঃষবসধহ ড়ৎ ধ ংপযড়ষধৎ, নঁঃ ড়ভঃবহ পড়সনরহবং ঃযব ড়িৎংঃ ড়ভ বধপয. অধ্যাপক সাহেব তার লেখা নিবন্ধে যাদের অনেক প্রশস্তি গেয়েছেন তাদের প্রসঙ্গে কিন্তু কথাগুলো বলছি না। কেবল মনে পড়ে গেল, তাই লিখলাম। এ কথাগুলো কোন বইয়ে পড়েছিলাম, তাও মনে করতে পারছি না। 
এবার বিমানের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে মির্জা সাহেব বিমানের কতটা ক্ষতি করে গেছেন, তার একটা উদাহরণ দেয়া যাক। 
বেগম খালেদা জিয়া ২০০১ সালে দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো বাংলাদেশ বিমানের জন্য ১১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১০ খানা নতুন এ্যারোপ্লেন কেনা হবে। বিমানের ফ্লিট প্ল্যান কমিটি তাদের বিদ্যার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অনেক গবেষণা করে এবং অনেক সময় ব্যয় করে ২০০৩ সালের শেষদিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে: নতুন প্লেনগুলো বোয়িং কোম্পানি থেকেই কেনা হবে। বিমানের বোর্ড সভায় তা অনুমোদিত হলো। 
তারেক রহমান জানতেন না, বোয়িং কোম্পানি থেকে প্লেন কিনলে কোন কমিশন পাওয়া যাবে না। আমেরিকার ফেডারেল আইন অনুযায়ী ওই দেশের কোন কোম্পানি বিদেশে কিছু বিক্রি করার জন্য কাউকে কোন কমিশন দিতে পারবে না। কিন্তু অনুদান দিতে পারে। ওই অনুদান আবার ব্যক্তি বা কোন গোষ্ঠীকে দেয়া যাবে না। ব্যাপারটা জানার পর তারেক রহমানের তো আক্কেলগুরুম। এত বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এ্যারোপ্লেন কিনব, অথচ কোন কমিশন পাওয়া যাবে না, তা কি হয়! তবে আর প্লেন কিনে লাভ কি? তারেক রহমান তখন তখনকার বিমানের প্রতিমন্ত্রী মীর নাসিরকে বললেন, আমরা বোয়িং কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কিনব না। আমরা কিনব, এয়ার বাস কোম্পানি থেকে প্লেন। মীর নাসির পড়ে গেলেন মহাবিপদে। বিমান বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে, সব বোর্ড সদস্যের সম্মতিক্রমে তিনি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছেন। এখন কোন অজুহাত দেখিয়ে বোয়িং প্লেনের পরিবর্তে এয়ারবাস এ্যারোপ্লেনের পক্ষে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাবেন?
তারেক রহমান তার মাকে বলে মীর নাসিরকে মন্ত্রিত্বের পদ থেকে অপসারিত করে নিজের একান্ত অনুগত মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিমানের প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগদানের ব্যবস্থা করলেন। মির্জা সাহেব প্রতিমন্ত্রী হয়েই বিমানের ফ্লিট প্ল্যান কমিটিকে নির্দেশ দিলেন, বোয়িং প্লেন বাদ দিয়ে এয়ারবাস প্লেন কেনার জন্য নতুন করে পরিকল্পনা করতে। ব্যাপারটা সহজ ছিল না। এক বছরেরও বেশি সময় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যাত্রী বহনের উপযুক্ততা, সিট-মাইলের কস্ট বা মূল্য ইত্যাদি হিসাব করে তৈরি করা ফ্লিট প্ল্যান বললেই তো আর রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। তবু ফ্লিট প্ল্যান কমিটি অনেক রকমের যুক্তিতর্কের উপস্থাপনা করে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আপতত ৪ খানা বিভিন্ন মডেলের এয়ারবাস প্লেন ক্রয় করা হবে। বোয়িং প্লেনের বিষয়টা পরে দেখা যাবে। 
এ্যারোপ্লেন ক্রয় করার জন্য বিদেশী ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হলো। কিন্তু বিদেশী ব্যাংকগুলো চাইল, বাংলাদেশ ব্যাংক কম করে হলেও উড়োজাহাজগুলোর মোট মূল্যের ১৫ শতাংশ পেমেন্টের গ্যারন্টার হতে হবে। 
প্রয়াত সাইফুর রহমান সাহেব তখন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী। সিলেট বিমানবন্দরের উন্নয়নের জন্য তখন ২৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই প্রকল্পের কাজটি পাওয়ার জন্য বিএনপি দলের গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলী সমর্থিত একটি গ্রুপ ছিল। অন্য আর একটি গ্রুপ ছিল সাইফুর রহমান সাহেবের বড় পুত্র নাসের রহমান কর্তৃক সমর্থিত। সাইফুর রহমান সাহেব স্বাভাবিকভাবেই চেয়েছিলেন তার ছেলের সমর্থক গ্রুপটি কাজটি পাক। ইলিয়াস আলীর পেছনের জোরটা ছিল তারেক রহমানের আশীর্বাদ। এই সমর্থন, আর্শীবাদ ইত্যাদির সঙ্গে অবশ্যই জড়িত ছিল বড় অংকের অর্থকড়ি। বিষয়টা উল্লেখ না করলেও চলত। যা হোক, শেষ পর্যন্ত ইলিয়াস আলী গ্রুপই প্রকল্পের কাজটি পেয়ে যায়। এতে করে সাইফুর রহমান সাহেব তো রেগেমেগে একাকার। রাগান্বিত হয়ে প্রথমে তো তিনি পদত্যাগের হুমকি দিলেন। তিনি কেন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, তা তো দেশবাসীও জানতে পারল না। কিন্তু কেন পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন, দেশবাসী অবশ্যই তা জানতেন না।
বার্ষিক বাজেট উপস্থাপনের আগে অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগের হুমকি বিএনপি দলটির নীতিনির্ধারকদের চিন্তায় ফেলে দিল। কিন্তু পদত্যাগের কথা বললেই তো তা করা যায় না। সাইফুর রহমানের পুত্রধনরা তো সততার ব্যাপারে ধোয়া তুলসীপাতা ছিলেন না। পুত্রধনদের তো তারেক রহমানের আক্রোশ থেকে বাঁচাতে হবে! অর্থমন্ত্রী সাহেব আর পদত্যাগ করলেন না। 
সাইফুর রহমান সাহেব পদত্যাগ করলেন না বটে, কিন্তু উড়োজাহাজ কেনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টি দেয়ার কাজটা বন্ধ রাখলেন। তিনি গ্যারান্টির চিঠি ইস্যু করতে সরাসরি অস্বীকার না করে নানা টালবাহানা করে কাজটি বিলম্বিত করতে শুরু করলেন। টালবাহানার ধরনটা ছিল এমন যে, দরকষাকষি করে উড়োজাহাজের দাম কিছুটা কমানো যায় কিনা। এমন মহৎ প্রচেষ্টাÑ কোন মডেলের উড়োজাহাজ বিমানের জন্য বেশি উপযোগী হবে, এমন ধরনের প্রশ্নের সদুত্তর চাচ্ছিলেন। এমনি করে কালক্ষেণ করতে করতে বিএনপি দলটির ক্ষমতাসীন থাকার সময় ফুরিয়ে গেল। 
এদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক রহমান এনারা চুপচাপ বসে ছিলেন না। পুরনো ডিসি-১০ প্লেন দিয়ে যে বাংলাদেশ বিমান চালিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং জরুরী ভিত্তিতে যে নতুন এ্যারোপ্লেন কিনতে হবে, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মির্জা ফখরুল এবং জিয়াপুত্র ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখলেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এক এক করে বিমানের ৫ খানা ডিসি-১০ প্লেনের মধ্যে ৪ খানাই অচল করে রাখলেন। ওই সময় উক্ত প্লেনগুলো ভাল সার্ভিসই দিচ্ছিল। বিমানের কোন গন্তব্যে যেতেই ডিসি-১০ প্লেনগুলোর কোন বাধা ছিল না। ওই প্লেনগুলোর ইঞ্জিনের ডি-চেক করার তখন ব্যবস্থা করা হয়েছিল হল্যান্ডের ডাচ এয়ারলাইনের সঙ্গে। পরে ব্যবস্থা করা হয় জার্মানির একটি কোম্পানির সঙ্গে। ডিসি-১০ প্লেনের এক একটা ইঞ্জিন ডি-চেকের জন্য বিদেশে পাঠানো হয়, কিন্তু মেইন্টেন্যান্সের অর্থ পরিশোধ করে সেগুলো আর ফেরত আনা হয় না। এক এক করে এমনিভাবে ডিসি-১০ প্লেনের ১০টি ইঞ্জিন বিদেশে পড়ে রইল। ফলে ৫ খানার মধ্যে ৪ খানা ডিসি-১০প্লেন আর উড্ডয়নক্ষম রইল না। এর চাপ পড়ল বিমানের তখনকার ৩ খানা এয়ারবাস এ্যারোপ্লেনের ওপরও। এমনি করে বিমানের সমস্ত সিডিউল ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ল। 
২০০৬ সালে মির্জা সাহেব যখন বিমানের প্রতিমন্ত্রী তখনকার কয়েকটি দিনের ফ্লাইট সিডিউলের বিপর্যয়ের খ-কালীন একটি চিত্র তুলে ধরছি: ২০০৬ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র এক সপ্তাহের চিত্র। উক্ত এক সপ্তাহে বিমানের ৪১টি ডিসি-১০ প্লেনের ফ্লাইটের একটি ফ্লাইটও সময়মতো ছাড়তে পারেনি। মাত্র একটি ফ্লাইট অল্প বিলম্বে ছেড়েছিল। বাকি ৪০ টি ফ্লাইট অনেক বিলম্বে ছেড়েছে অথবা ক্যান্সেল হয়েছে। ওই একই সময় এয়ারবাস-৩১০ প্লেনের ১১৬টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ১৭% ফ্লাইট নিয়মিত সময় চলাচল করেছে। এর পরের সপ্তাহে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ডিসি-১০ প্লেনের ৬৭টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র একটি ফ্লাইট সময়মতো ছেড়েছিল। এয়ারবাস প্লেন দিয়ে পরিচালিত ৯৬টি ফ্লাইটের মধ্যে মাত্র ১৬টি চলেছিল নিয়মিত সময়ে। ওই সময় একটানা ২১ দিন সময় যাবত বিমানের ডিসি-১০ প্লেনের কোন ফ্লাইটই সময়মতো চলাচল করেনি। 
ডিসি-১০ প্লেনের ১০টি ইঞ্জিন ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশে ফেলে রাখা এবং ফ্লাইট সিডিউল সংক্রান্ত যে সব তথ্য পরিবেশন করা হলো, সে সবের রেকর্ড, কাগজপত্র সবই বিমান অফিসে আছে। তাই এ লেখার বিষয়বস্তু সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নেয়ার চেষ্টা করলেই এ সবের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। 
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সময় নিউইয়র্কে নর্থ আটলান্টিক ট্রাভেল এজেন্সি নাম দিয়ে বিএনপিঅলাদের কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি মিলে একটি সিন্ডিকেট করে। মির্জা সাহেব বিমানের নিউইয়র্ক অফিসকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিলেনÑবিএনপিঅলাদের ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ছাড়া অন্যরা বিমানের টিকেট বিক্রি করতে পারবে না। ওই ট্রাভেল এজেন্সিগুলো নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অনেক বেশি ভাড়া আদায় করত। ফলে ঢাকা-নিউইয়র্কের মধ্যে বিমানের যাত্রী কমতে শুরু করল। এক পর্যায়ে বিমানের ঢাকা-নিউইয়ের্কের ফ্লাইটই বন্ধ করে দিতে হলো। 
এ সব ছাড়া মির্জা সাহেবের মন্ত্রিত্বের সময়ের অন্যান্য দুর্নীতির বিষয় আলোচনা করলাম না লেখাটার কলেবর বৃদ্ধি না করার ইচ্ছা থেকে। আমার বক্তব্য হলো, বাংলাদেশ বিমানের বর্তমান বেহাল অবস্থার সূচনাটা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই করে গেছেন। একবার যদি কোন এয়ারলাইন্সের ওপর যাত্রীরা আস্থা হারিয়ে ফেলে, তবে ওই এয়ারলাইন্স আর সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। 
শুনেছি ম্যাকারেল মাছের পচন ধরলে ওগুলোকে নাকি বেশি শাইনিং (ঝযরহরহম) দেখায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অধ্যাপক লিখেছেন যে, বিমানের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে মির্জা সাহেবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বা অনিয়মের কোন অভিযোগ ছিল না। তাকে শুধু বলব, যে পত্রিকায় তিনি নিবন্ধটি লিখেছেন ওই পত্রিকাসহ অন্যান্য ওই সময়ের পত্রিকাগুলো যেন পড়ে দেখেন। আমার বক্তব্য হলো, আপনার লেখার স্বাধীনতা আছে। পা-িত্য আছে। আপনি সুলেখকও বটে। তাই লিখুন। 

লেখক : সাবেক বৈমানিক ও মুক্তিযোদ্ধা

Friday, December 30, 2011

যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি ॥ জনসমুদে গর্জন


যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবি জনসমুদে গর্জন



রাজধানী ছিল মিছিলের নগরী
জানুয়ারি সকল জেলায় ১১ জানুয়ারি প্রত্যেক উপজেলায় গণমিছিল সমাবেশ
প্রত্যেক এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের বীরাঙ্গনা ক্ষতিগ্রস্তদের সম্মান জানানো হবে
উত্তম চক্রবর্তী অনেকদিন পর যেন রাজধানীবাসী দেখল জনসমুদ্রের গর্জন! আর এই সমুদ্রের গর্জন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে। বুধবার লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে মহাজোটের গণমিছিলে যেন থমকে গিয়েছিল ঢাকা মহানগরী। জাতীয় প্রেসক্লাব, মৎস্যভবন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হয়ে শাহবাগ, হোটেল রূপসী বাংলা কাটাবন পর্যন্ত দীর্ঘ পথই ছিল জনতরঙ্গ। যেন জনতরঙ্গের শুরু আছে, শেষ নেই। জনতরঙ্গ থেকে ভেসে আসা লাখো মানুষের গগনবিদারী একই সেস্নাগান- 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের ঠাঁই নাই', বীর বাঙালী ঐক্য গড়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কর' গণমিছিল শেষে বিশাল জনসমাবেশে মহাজোটসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী লাখো মানুষ দু'হাত তুলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার দীপ্ত শপথ গ্রহণ করেন।জনসমুদ্রের সামনে শপথবাক্য পাঠ করিয়ে মহাজোটের শীর্ষ নেতারা ঘোষণা দেন, যতদিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হবে ততদিন রাজপথ ছেড়ে যাবে না মহাজোটের নেতাকমর্ীরা। সারাদেশের পাড়া-মহল্লা, শহর-বন্দরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পৰে স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষকে সোচ্চার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের মুখপাত্র খালেদা জিয়া যতই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করুক না কেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন করে বাঙালী জাতিকে অভিশাপমুক্ত করবই। এমন বাঁধভাঙ্গা মানুষের গণজোয়ার অনেকদিনই দেখেনি রাজধানীবাসী। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের রৰায় মাঠে নামা বিএনপি-জামায়াত জোটের সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথে রাজধানীতে লাখো মানুষের বাঁধভাঙ্গা স্রোত নামিয়ে বুধবার বড় ধরনের শোডাউন করেছে ৰমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দ দলসহ মহাজোট। মহাজোটের ডাকে এই গণমিছিলে শরিক হয়েছিলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধসহ দলমত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবধরনের শ্রেণী-পেশার মানুষ। মহাজোটের বাইরে যুগপৎ কর্মসূচীর অংশ হিসাবে একই দাবিতে ঢাকা মহানগরীতে পৃথক লাল পতাকা মিছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)একাত্তরের মতোই বুধবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এক অন্যরকম গণজাগরণের সৃষ্টি হয়েছিল স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সামনে। এই উদ্যানেই ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বজ্রকঠিন নির্দেশে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল পাক হানাদারবাহিনীর ওপর, দীর্ঘ নয় মাস এক সাগর রক্তের বিনিময়ে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর এই স্থানটিতেই পাক হানাদারবাহিনীর লাখো সদস্য আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল বীর বাঙালীর কাছে। সেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের সামনে বুধবার গণমিছিল শেষে একাত্তরের মার্চের মতোই লাখো বীর বাঙালী দু'হাত তুলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ গ্রহণ করেন। আর এই শপথবাক্য পাঠ করান চৌদ্দ দলের সমন্বয়ক, সংসদ উপনেতা আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। লাখ লাখ মানুষ দু'হাত তুলে শপথবাক্য পাঠ করে বলেন, 'আমরা শপথ করছি যে, ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে জাতি-ধর্ম, গোত্র-বর্ণ-শ্রেণী নির্বিশেষে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পাকহানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, যে কোন মূল্যের বিনিময়ে তা সমুন্নত রাখব। আর স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাসহ মা-বোনদের হত্যা, ধর্ষণ, অগি্নসংযোগ লুটপাট করেছে, সেসব হনত্মারক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবই। দেশ থেকে জঙ্গীবাদ সাম্প্রদায়িকতাকে নিমর্ূল করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণমুক্ত সমৃদ্ধিশালী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলবই।'শপথ গ্রহণ শেষে জনসমুদ্র থেকে যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী গোলাম আযম-নিজামী-সাঈদী-সাকাদের ফাঁসির দাবিতে গগনবিদারী সেস্নাগান পুরো এলাকাকে প্রকম্পিত করে তোলে। শপথ গ্রহণের পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যনত্ম রাজপথে থাকার অংশ হিসেবে মহাজোটের পরবতর্ী কর্মসূচী ঘোষণা করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার মতোই আগামী জানুয়ারি দেশের সব জেলায় এবং ১১ জানুয়ারি দেশের সব উপজেলায় গণমিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেক এলাকায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরের বীরাঙ্গনা ৰতিগ্রসত্মদের সম্মান জানানো হবে।গণমিছিল সমাবেশ শেষে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থানা থেকে আগত গণমিছিলে আনা কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী, সাঈদী সাকা চৌধুরীদের নানা ঢঙের কুশপুতুল দাহ করার আগে জুতা থুথু নিৰেপের মাধ্যমে তাদের প্রতি চরম ঘৃণা ধিক্কার জানান নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ পথের বিভিন্ন স্থানে কুশপুতুলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে সেস্নাগানে সেস্নাগানে প্রকম্পিত করে মহাজোটের নেতারা সেখানে এক অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি করে।গণমিছিলের প্রস্তুতি ছিল ব্যাপকই। কিন্তু কর্মসূচীতে এমন গণবিস্ফোরণ আয়োজকদেরও হতবাক করে দেয়। প্রথমে এই গণমিছিল সমাবেশ চৌদ্দ দলের পৰ থেকে করার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় পার্টিরও কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের ঘোষণা কর্মসূচী সফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।সকাল থেকেই সাজসাজ রব পড়ে গণমিছিলের। সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের শিখা চিরনত্মনের চতুর্দিকে এত মানুষের স্থান সঙ্কুলান হবে না এটা অাঁচ করতে পেরে মহাজোট নেতারা স্থান পরিবর্তন করে সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের সামনের রাসত্মায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে বিরাট মঞ্চ তৈরি করেন। এদিকে শাহবাগ থেকে শুরম্ন করে মৎস্যভবন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যনত্ম কয়েক ' মাইক লাগানো হয় আগে থেকেই।মহাজোট আয়োজিত গণমিছিল শেষে সমাবেশের মঞ্চের ব্যানারে লেখা ছিল- 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এবং তাদের রৰায় সব চক্রানত্ম নস্যাত দেশে নৈরাজ্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লৰ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা এবং আইনের শাসন, শানত্মি, গণতন্ত্র উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লৰ্যেই এই গণমিছিল সমাবেশ। সমাবেশের শুরম্নতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সদ্য প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুর রাজ্জাকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।দুপুর দুইটার দিকে ঢাকা মহানগরীর ৪৬টি থানা, এক 'টি ওয়ার্ড, ১৭টি ইউনিয়ন এবং ১৫টি নির্বাচনী এলাকা থেকে একযোগে গণমিছিল সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের দিকে যাত্রা শুরম্ন করলে কার্যত পুরো ঢাকাই যেন কিছু সময়ের জন্য থমকে যায়। মহাজোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের সহযোগী ভাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অজস্র সংগঠন মিছিল নিয়ে আসতে থাকে সমাবেশস্থলে। বিশেষ করে অসংখ্য ব্যানার, ফেস্টুন বিশাল বিশাল জাতীয় পতাকা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগে কয়েক ' রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা গণমিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হলে এলাকার পুরো পরিবেশই যেন পাল্টে যায়।বেলা তিনটায় সমাবেশ শুরম্নর আগেই মৎস্যভবন থেকে শাহবাগ মোড় পর্যনত্ম দীর্ঘ এলাকা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বাদ্যবাজনার তালে তালে, যুদ্ধাপরাধীদের কুশপুতুল এবং একাত্তরে তাদের ভূমিকার নানা সচিত্র ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে শত শত মিছিলের স্রোতে পুরো এলাকায় রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশের মঞ্চ থেকে চৌদ্দ দলের মহানগরীর সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে বার বার স্থান সঙ্কুলানের অভাবের কথা তুলে ধরে গণমিছিলে থাকা নেতাকর্মী সমর্থকদের মঞ্চের দিকে না এসে যে যেখানে আছেন সেখানেই বসে পড়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে গণমিছিলের মিলনস্থল সোহরাওয়াদর্ী উদ্যাদের দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় যেন মানুষের বাঁধভাঙ্গা স্রোত নামে। একপর্যায়ে একদিকে জিরো পয়েন্ট, পল্টন, জাতীয় প্রেসক্লাব মৎস্যভবন হয়ে সোহরাওয়াদর্ী উদ্যান এবং অন্যদিকে হোটেল রূপসী বাংলা, কাঁটাবন, শাহবাগ হয়ে সমাবেশস্থল এই পুরো এলাকাই লোকে লোকারণ্য হয়। হাজার হাজার মিছিল থেকে একই সেস্নাগান দাবি উচ্চকিত হয়েছে আর তা হলো- 'যুদ্ধাপরাধীদের ৰমা নাই, এক দড়িতে ফাঁসি চাই', খালেদা-নিজামী ভাই ভাই, তাদেরও ফাঁসি চাই', বঙ্গবন্ধুর বাংলায় রাজাকারদের ঠাঁই নাই' ইত্যাদি। গণমিছিলে অংশ নেয়া অসংখ্য ট্রাকে মঞ্চ বানিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক মার্চের ভাষণ, একাত্তরের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সাড়া জাগানিয়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশ করতেও দেখা গেছে।


ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে আসা বিশাল বিশাল মিছিল নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়ে। বিশেষ করে সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আসলামুল হক আসলাম, ইলিয়াসউদ্দিন মোলস্না, ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন, কামাল আহমেদ মজুমদার, হাবিবুর রহমান মোলস্না, এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বে আসা বিশাল বিশাল মিছিল ছিল উলেস্নখ করার মতো। চৌদ্দ দলের সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে গড়া কেন্দ্রীয় যুব সংগ্রাম পরিষদ, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে বিশাল দুটি যুব ছাত্রদের মিছিল সবার দৃষ্টি কাড়ে। এছাড়া আসন্ন বিভক্ত দুই সিটি কর্পোরেশনে সম্ভাব্য কমিশনার পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহাজোটের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের নেতৃত্বে আসা বড় বড় মিছিল কর্মসূচীতে গণবিস্ফোরণ ঘটাতে ভূমিকা রাখে।
গণমিছিলে নেতৃত্ব সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মেজবাহ উদ্দিন সিরাজ, বিএম মোজাম্মেল হক, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, . হাছান মাহমুদ, এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম, মৃণাল কানত্মি দাস, অসীম কুমার উকিল, হাবিবুর রহমান সিরাজ, হুইপ আসম ফিরোজ, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা এমপি, সুজিত রায় নন্দী, এমএ আজিজ, এ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, জাসদের হাসানুল হক ইনু, শরিফ নুরুল আম্বিয়া, শিরিন আকতার, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, গণতন্ত্রী পার্টির নুরম্নর রহমান সেলিম, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, ন্যাপের এ্যাডভোকেট এনামুল হক, মির্জা আজম এমপি, হাজী মোহাম্মদ সেলিম, পংকজ দেবনাথ, আশরাফুন্নেসা মোশাররফ এমপি, শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ